সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনার




আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির উদ্যোগে কবি সুফিয়া কামাল’র স্মরণে আজ ২১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ‘সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ কবি সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে তার কবিতার বহুমাত্রিকতা ও আধুনিকতা নিয়ে অত্যন্ত চমৎকার এবং তথ্যবহুল দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়।

সেমিনারের প্রথম প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ড. জান্নাত আরা সোহেলী ম্যাম। তার প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল—‘সুফিয়া কামালের কবিতা: বিষয় ও অনুভবের বৈচিত্র্য’। বরিশালের সুফিয়া কামালের কবিতা যে কেবল দেশপ্রেম বা নারী জাগরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর এক অনুভবের বৈচিত্র্য এবং জীবনের নানা রূপ—তা ম্যামের গভীর বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনায় চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তার আলোচনা থেকে কবির লেখার ভিন্ন ভিন্ন ডাইমেনশন সম্পর্কে অনেক নতুন ধারণা পেলাম।

এরপরের প্রবন্ধটি ছিল বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভাবনাবহুল। ‘বিপন্ন প্রকৃতির বিষণ্ন নারী: সুফিয়া কামালের কবিতায় পরিবেশ-নারীবাদী অনুষঙ্গ’ শিরোনামের এই প্রবন্ধটি পাঠ করেন শ্রদ্ধেয় সানজীদা মাসুদ ম্যাম। সুফিয়া কামালের কবিতায় ‘পরিবেশ-নারীবাদ’ (Eco-feminism)-এর মতো আধুনিক ও মননশীল অনুষঙ্গ খুঁজে বের করা সত্যিই অসাধারণ। বলা যায় প্রকৃতির বিপন্নতার সাথে নারীর বিষাদ, সংগ্রাম এবং সহনশীলতার মেলবন্ধন সুফিয়া কামালের কবিতার আলোয় নতুন দৃষ্টিকোণ পেল।

এমন একটি উচ্চমানের এবং জ্ঞানগর্ভ সেমিনারে যুক্ত হতে পারাটা অত্যন্ত আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার। ম্যামদের চমৎকার প্রবন্ধ পাঠ এবং সুফিয়া কামালের সাহিত্যকে নতুন এক আলোয় চেনার এই সুযোগ দেওয়ার জন্য তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি। এমন আয়োজন আমাদের সাহিত্যিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করে, চিন্তা জগৎ বিকশিত করতে উদ্‌বুদ্ধ করে।

মুহাম্মদ আল ইমরান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

ছবি নজরুল ভাই[দর্শক] ও আমার তোলা।
২১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।