৩১ অক্টোবর, প্রখ্যাত অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আমার অন্যতম প্রিয় ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিন।
প্রিয় এই মানুষটির সাথে আমার ভালোলাগার এক অপূর্ব সংযোগ রয়েছে। ছোটবেলায় বিভিন্ন ভিডিওতে সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যের প্রস্তাবনা অংশের তার সেই জাদুকরী আবৃত্তি আমাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে, আমি পুরো প্রস্তাবনা মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। অথচ জেনে অবাক হবেন- আমি মাঝে মধ্যে আব্বাস, 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যের মঞ্চায়নে তিনি নূরলদীনের বন্ধু 'আব্বাস' চরিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি এই প্রস্তাবনাটুকু পাঠ করতেন।
তার জীবনযাত্রার সাথে নিজের জীবনের কিছু অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া আমার জন্য এক পরম আনন্দের বিষয়। এক সাক্ষাৎকারে জেনেছিলাম তার বাবা-মা দুজনেই শিক্ষকতা করতেন, যা আমার সাথেও মিলে যায়। তবে সবচেয়ে মজার মিলটি হয়তো- গানে! তাকে তো কখনো গান গাইতে দেখিনি; বরং একবার এক অনুষ্ঠানে তিনি তার বাবার একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার বাবা পত্রিকায় ছেলের গান গাওয়ার ছবি দেখে লিখেছিলেন— "দেখিলাম তুমি ঢাকার মঞ্চে বসে গান গাহিতেছ, বুঝিলাম ঢাকায় সংগীতের কি দুরবস্থা।" তার এই স্মৃতিচারণা শুনে মনে হয়, আমি যদি কখনো গান গাওয়ার দুঃসাহস দেখাই, তবে আমার পরিবার থেকেও ঠিক এমন কথাই শুনতে হবে! শুধু কি তাই? জন্মসনদ করার আগে আমার নিজের নামের সাথেও 'নূর' শব্দটি যুক্ত ছিল— যেমনটি আছে আমার মামা, মামাতো ভাই-বোন ও আমার ভাইয়ের নামের সাথে।
একজন ভক্ত হিসেবে প্রিয় মানুষের সাথে এমন অদ্ভুত মিলগুলো খুঁজে পাওয়া এক আলাদা ভালোলাগার জন্ম দেয়। সামনাসামনি একবার তাকে দেখি, তখন এই কথাগুলো তাকে বলার সুপ্ত ইচ্ছা ছিল, হয়নি ক্রমাগত আরও তীব্র হয়। জানি না সেই স্বপ্নকপোত কখনো বাস্তবে ধরা দেবে কি না, তবে এই ভালোলাগা আজীবন অম্লান থাকবে।
আজ এই বিশেষ দিনে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও প্রশান্তিময় জীবন কামনা করি। শুভ জন্মদিন, আসাদুজ্জামান নূর!
লেখা: মুহাম্মদ আল ইমরান।
ছবি: ক্যাথারসিসই।
