দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও কিছু কথা



‎
‎গত 23 August 2026 আমাদের ‘ইডিপাস’ নাটক দেখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসেছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও সময় করে আমাদের প্রযোজনা দেখতে এসেছেন। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
‎
‎একটি নাট্যপ্রযোজনা কেবল মঞ্চে থাকা শিল্পীদের কাজ নয়; দর্শকের উপস্থিতি, মনোযোগ, প্রতিক্রিয়া ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই একটি প্রযোজনা তার পূর্ণতা খুঁজে পায়। আপনাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের এবং একই সঙ্গে অনুপ্রেরণার।
‎
‎তবে সেদিন একটি বিষয় আমাদের আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা অস্বস্তিও দিয়েছে। দর্শক আসনের স্বল্পতার কারণে অনেক দর্শককে বসার জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি জায়গার অভাবে অনেকে উপস্তিত থেকেও প্রবেশ করতে পারেননি। যারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, সময় বের করে আমাদের নাটক দেখতে এসেছিলেন—তাদের অনেককেই এভাবে ফিরতে হয়েছে, বিষয়টি আমাদের জন্য সত্যিই কষ্টের।
‎
‎এই সীমাবদ্ধতাগুলো আমাদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং একটি থিয়েটার বিভাগকে নিয়মিত প্রযোজনা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও পরিবেশনার জন্য যে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তারই বাস্তব চিত্র। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার বিভাগ শুধু একটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিভাগ নয়। এখানে মঞ্চ, মহড়া, আলো, শব্দ, সেট, পোশাক, দর্শক ধারণক্ষমতা—সবকিছুর সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক পরিবেশ জড়িত।
‎
‎তাই আমরা আশা করি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাট্যকলা বিভাগের প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতাগুলোকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একটি উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত দর্শক ধারণক্ষমতার মঞ্চ, মহড়ার জায়গা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে আমাদের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও একাডেমিক থিয়েটারচর্চা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।
‎
বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার শুধু একটি বিভাগের বিষয় নয়—এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশ এবং সমাজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ।
‎
‎সব সীমাবদ্ধতার পরও যারা এসেছেন, যারা জায়গা না পেয়েও অপেক্ষা করেছেন, যারা প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে গেছেন, যারা আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন—আপনাদের প্রত্যেকের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং কৃতজ্ঞ।
‎
‎আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের আরও ভালো কাজ করার দায়বদ্ধতা তৈরি করে। আমাদের মঞ্চ ছোট হতে পারে, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে—কিন্তু স্বপ্নটা বড়। আমরা চাই, আগামী দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ আরও বড় পরিসরে, আরও সুন্দর অবকাঠামোর মধ্যে, আরও বেশি দর্শকের সামনে কথা বলবে।
‎
‎মুহাম্মদ আল ইমরান
‎নাট্যকলা বিভাগ
‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।