এক অগ্নিবীণার সুরকারের বন্দনায়, এক
বাঁধনহারা ঝড়ের উপাসনায়—আমাদের জাতীয় কবি, সাম্য ও দ্রোহের রূপকার কাজী নজরুল ইসলামের
স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই লেখার সংকলন।
কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন নির্দিষ্ট
কালের বা সীমানার কবি নন; তিনি সার্বজনীন। সাম্য, চেতনা ও স্বাধিকার আন্দোলনের এক অক্ষয়
বাতিঘর। তার সাহিত্য সৃষ্টি ও জীবনদর্শন তৎকালীন পরাধীন ও শোষিত ভারতের মুক্তিকামী
মানুষকে যে প্রেরণা জুগিয়েছিল, তা আজও সমান ভাস্বর ও চিরঞ্জীব।
১. প্রারম্ভিক সূচনা/নজরুলের বহুমুখী প্রতিভা ও জীবনদর্শন:
"আমি চিরতরে দূরে চলে যাব
তবু আমারে দেব না ভুলিতে
আমি বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ
বেণী যাবে যবে খুলিতে।" ১
উল্লিখিত গানের গীতিকার বিদ্রোহী কবি
কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম গানে বলেছেন, "...আমারে দেব না ভুলিতে...।" সত্যি
কথা বলতে আমরা চাইলেও তাকে ভুলতে পারবো না! আর আমরা তাকে ভুলতেও চাই না।
জীবনানন্দ দাশের মতো অ্যাবস্ট্র্যাকশনের কবিও স্বীকার করেছেন, ‘কবিতা ও
জীবন একই জিনিসের দুই রকম উত্সারণ।’ সে জন্যই প্রকৃতি বা ঈশ্বরনির্মিত জীবনের আর দ্বিতীয়
নির্মাণ সম্ভব নয়। যে-জীবন অতিবাহিত হয়ে গেছে, তা আর পুনর্নির্মাণ করা যাবে না। কাজী
নজরুল ইসলামের মতো অসাধারণ প্রতিভাবানের কেন, একজন সাধারণ মানুষের জীবনও পুনর্গঠন করা
যায় না।২ সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ কাজী
নজরুল ইসলামের। নাটক, সিনেমা, গান, কবিতা, গল্প ও উপন্যাস সাহিত্যের সকল মাধ্যমেই নিজেকে
বিকশিত করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। যদি বলা হয় নজরুলের পেশা কি? তবে ঠিক এমন ভাবে বলা
যাবে তালিকা সমূহ- কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, সম্পাদক, গীতিকার,
সুরকার, গায়ক, অভিনেতা, অনুবাদক, রাজনৈতিক কর্মী।
২. জীবনের সেরা বছর ১৯২২ সাল:
বাংলা সাহিত্যের অগ্নিপুরুষ, আমাদের
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের এক ঐতিহাসিক বছর নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। আর সেই
বছরটি হলো ১৯২২ সাল। ১৯২২ সাল নজরুল-জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। এক-জীবনের সাহিত্যিক
অভিজ্ঞতা যেন ওই একটি মাত্র বছরেই নজরুল অর্জন করেছিলেন।
১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি শুক্রবার নজরুল
ইসলামের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হলো সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায়। বাংলা
সাহিত্যে আর কোনো একটি কবিতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে এত বিপুল আলোচনা-সমালোচনা হয়নি, যেমনটি
হয়েছে এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতা নিয়ে। শুধু ‘বিদ্রোহী’ কবিতাই নয়, নজরুলের সাহিত্যের সিংহভাগ
মাইলফলক রচিত হয়েছে এই একই বছরে:
এ বছর প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্পগ্রন্থ
‘ব্যথার দান”।
এ বছর প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতাগ্রন্থ
‘অগ্নিবীণা’।
এ বছর প্রকাশিত হয় তার প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ
‘যুগবাণী’।
তবে এই অর্জন সহজ ছিল না। যুগবাণী
প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা বাজেয়াপ্ত হয়— অর্থাৎ ১৯২২ সাল নজরুলের প্রথম গ্রন্থ- বাজেয়াপ্তিরও
বছর। একই বছর, অর্থাৎ ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় অর্ধসাপ্তাহিক
'ধূমকেতু' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। অতঃপর ২৬ সেপ্টেম্বর ধূমকেতু পত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের
‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য পত্রিকাটি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং কবি নজরুলকে গ্রেপ্তার করা
হয়।
“বাংলা দেশের বিভিন্ন জেলায় ধূমকেতুর পুচ্ছ গিয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে নজরুল হঠাৎ
অদৃশ্য হয়ে যায়। ঢাকা, কুমিল্লা, মুর্শিদাবাদ... বিশেষ করে তখন আর একদিক থেকে কুমিল্লা
তাকে টানছে। বাংলার আকাশে বাতাসে বিপ্লবের একটা অস্পষ্ট ইঙ্গিত বিদ্যুতের মত ঝিলিক
দিয়ে ওঠে। ধূমকেতুর কবিতা জীর্ণ আবর্জনার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয়। তরুণেরা সে বন্ধুৎসবে
উল্লসিত হয়ে ওঠে। একটা গতিশীল সজীবতা যৌবনকে উচ্চকিত করে তোলে। স্থানু প্রাচীনপন্থীর
দল বিরক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।”৩
৩. শৈশব, দুখু মিয়া ও লেটো দল:
পিতা(কাজী ফকির আহমেদ) – মাতা(জাহেদা খাতুন)’র পরপর চারটি পুত্রসন্তানের
অকালমৃত্যুর পর ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান
জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কবি জন্মগ্রহণ করেন। তাই পরম বেদনায় পাওয়া এই সন্তানের নাম
মাতা স্নেহে রেখেছিলেন 'দুখু মিয়া'। কবির পারিবারিক আর্থিক অবস্থা সচ্ছল ছিল না। তার
পিতা ছিলেন স্থানীয় মাজার ও মসজিদের সেবক। মাত্র আট বছর বয়সে নজরুল পিতৃহারা হন, ফলে
তাদের অভাব-অনটন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৩১৬ বঙ্গাব্দে গ্রামের মক্তব থেকে তিনি নিম্ন
প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে পিতার প্রয়াণের পর আর্থিক সংকটে পড়ে তার প্রাতিষ্ঠানিক
লেখাপড়া থমকে যায়।
পরবর্তীতে, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি যুক্ত হন লেটো গানের দলে। এ সময় গ্রামের
গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে রানীগঞ্জের শিয়ারশোল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের
চারদেয়ালের আবদ্ধ পরিবেশ এবং ধরাবাঁধা নিয়মকানুন তার মুক্তমনকে বাঁধতে পারেনি। ফলস্বরূপ,
একদিন তিনি বিদ্যালয় ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন।
স্কুল ত্যাগ করে আসানসোলে এসে মাসিক মাত্র পাঁচ টাকা বেতনে একটি রুটির দোকানে
কর্মসংস্থান খুঁজে নেন। সেখানে সকাল থেকে রাত অব্দি তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। তবে
নজরুলের ভেতরে সুপ্ত ছিল এক জন্মজাত কবিপ্রতিভা। লেটোর দলে থাকাকালীনই তিনি আশুকবিতায়
গান বেঁধে ফেলতেন। রুটির আটা ছানার ক্লান্তিকর কাজের মাঝেও সহকর্মীদের মনে স্বস্তি
এনে দিতে তিনি আপন মনে সুর ছড়িয়ে দিতেন:
“ঘামেতে ভিজলো আমার গা-টা মাখতে মাখতে
গমের আটা।”৪
সেই রুটির দোকানের পাশেই বাস করতেন আসানসোল থানার দারোগা কাজী রফিজউদ্দিন।
তিনি বালক কবির সুরেল কণ্ঠে বিমোহিত হয়ে তাকে নিজের গৃহভূমি ময়মনসিংহের ত্রিশালের
দরিরামপুর হাই স্কুলে এনে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু বাঁধনহারা এই কবির মন সেখানেও দীর্ঘদিন
ধরে রাখা সম্ভব হয়নি; দশম শ্রেণীতে ওঠার পরপরই তিনি সেখান থেকেও বিদায় নেন।
৪. সৈনিক জীবন ও সাহিত্য চর্চা:
সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে সূত্রপাত ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের। ব্রিটিশ সরকার তখন
যুদ্ধের প্রয়োজনে সৈন্যদলে নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯১৭ সালে, সকলের
অজান্তে কবি সোজা গিয়ে নাম নতিভুক্ত করেন ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে। পরবর্তীতে নিষ্ঠা
ও যোগ্যতার বলে তিনি বাঙালি রেজিমেন্টের 'হাবিলদার' পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
সামরিক জীবনের কঠোর নিয়মকানুনের মধ্যেও তার কাব্যচর্চার ধারা থেমে থাকেনি।
এই ব্যারাকে বসেই রচিত হয় তার প্রথম গল্প ‘বাউণ্ডেলের আত্মকথা’, কবিতা ‘মুক্তি’, এবং
‘স্বামীহারা’, ‘ব্যথার দান’ ও ‘হেনা’-র মতো অনবদ্য গল্পগুলো। এছাড়া তার বিখ্যাত ‘রিক্তের
বেদন’ সংকলনের গল্পগুলোর নেপথ্য রচনাও এই সময়কালেই সম্পন্ন হয়েছিল।
৫. জেলজীবন ও ৩৯ দিনের অনশন:
হুগলী জেলে কারারুদ্ধ থাকাকালে কয়েদিদের ওপর জেল কর্তৃপক্ষের অত্যাচারের
প্রতিবাদে কবি অনশন ধর্মঘট পালন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্তরঞ্জন দাস প্রমুখ নজরুলকে
অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানিয়ে টেলিগ্রাম ও পত্র প্রেরণ করেন। প্রেসিডেন্সি জেলের ঠিকানায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেছিলেন সেটা ছিল এরকম: Give up hunger
strike our literature claims you। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ সেই টেলিগ্রাম নজরুলকে দেননি।
তারা Addresee not found সিল মেরে রবীন্দ্রনাথের টেলিগ্রামটি কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেন।
এই সময় রবীন্দ্রনাথ তার ‘বসন্ত’ নাটকটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। অবশেষে কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী
দেবীর অনুরোধে ৩৯ দিন পরে কবি অনশন ভঙ্গ করেন।৫
৬. রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল: কোনো সংঘাত নয়, অপূর্ব সমন্বয়:
নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে প্রতিপক্ষ ভাবা বাংলা সাহিত্যের
সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর চর্চাগুলোর একটি। তারা ছিলেন একই সাহিত্যের আকাশে দুই
ভিন্ন কক্ষপথের নক্ষত্র—একজন যদি প্রজ্ঞা ও দর্শনের সুর বেধে থাকেন, অন্যজন তবে এনেছেন পরিবর্তন
ও বিদ্রোহের তরঙ্গ। সাহিত্যের বিশাল ক্যানভাসে তাদের এই বৈচিত্র্য কোনো সংঘাত নয়, বরং
এক অপূর্ব সমন্বয়।
“রবীন্দ্রনাথকে বিশ্বকবিরূপে নজরুল কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তা জানা যায় নজরুলের
জবানি থেকে। 'বড়র পীরিতি বালির বাঁধ' প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, 'বিশ্বকবিকে আমি শুধু
শ্রদ্ধা নয়, পূজা করে এসেছি সকল হৃদয়-মন দিয়ে, যেমন করে ভক্ত তার ইষ্টদেবতাকে পূজা
করে। ছেলেবেলা থেকে তাঁর ছবি সামনে রেখে গন্ধ-ধূপ-ফুল-চন্দন দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা বন্দনা
করেছি।…”৬
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল গভীর স্নেহ ও পারস্পরিক
শ্রদ্ধাবোধের ওপর। যে দুই প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব একে অপরকে সম্মান জানিয়েছেন, তাদের
অনুসারী হিসেবে আমাদের মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষ খোঁজার মেকি উন্মাদনা সাহিত্যের পরিমণ্ডলেই
কলঙ্ক লেপন করে।
সাহিত্যের উপাদানের দিকে তাকালেও দেখা যায়, একজন যেখানে আত্মোপলব্ধি, নান্দনিকতা
ও বিশ্বজনীনতার শিক্ষা দিয়েছেন; অন্যজন সেখানে রাজপথের লড়াই, শোষণের বিরুদ্ধে গর্জন
ও গণমানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। সাহিত্য কোনো একক স্রোতের নাম নয়; নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের
ভিন্ন দুটি স্রোত মিলে তৈরি হয়েছে আধুনিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উত্তাল মহোচ্ছ্বাস।
তাই নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে প্রতিযোগী
হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা মানে সাহিত্যের সীমা কেটে ছোট করে ফেলা। তাদের পরিপূরক হিসেবে
গ্রহণ করেই বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সামনের দিকে এগিয়েছে। একে অপরের বিপরীতে
না বসিয়ে, তাদের সৃষ্টিকে একসাথে উদ্যাপন করাই প্রতিটি সাহিত্যপ্রেমীর আসল দায়িত্ব।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব ও বুদ্ধদেব বসুর মতো প্রাজ্ঞ সাহিত্যিকদের
কাছেও নজরুল ছিলেন পরম শ্রদ্ধার। ১৯৩৫ সালে যখন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের
সম্পাদনায় কবিতা পত্রিকা প্রকাশিত হয়, নজরুল তখন সংগীতবিশ্বে নিমগ্ন। কিন্তু নজরুল-সাহিত্য-ও-সংগীত
বিষয়ে বুদ্ধদেব বসুর শ্রদ্ধা ছিল অপরিসীম। কবিতা পত্রিকার শতাধিক সংখ্যার মধ্যে চারজন
কবির সম্পর্কে চারটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। তারা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ
দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও নজরুল ইসলাম। কবিতা এবং গুলিস্তাঁ পত্রিকায় বেশকিছু স্মৃতিচারণা
প্রকাশিত হয়।৭
কাজী মোতাহার হোসেন কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম ও সংগীতের মূল্যায়নের
পাশাপাশি তাঁদের পারস্পরিক ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে কবির শিল্পসত্তা ও মননকে
গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করেছেন। নজরুলের সঙ্গে কেবল নিবিড় সখ্যই নয়, বরং নিজের
জীবন ও ভাবনায় কবির যে প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে, তা-ও তিনি সানন্দে স্বীকার করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন—
“…নজরুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দিনগুলো আমার সাহিত্যিক জীবনের অমূল্য সঞ্চয়।
দৃষ্টিতে তীক্ষ্ণতা (বৈজ্ঞানিক হিসাবে) আগে থেকেই ছিল, কিন্তু নজরুলের সংস্পর্শে এসে
হয়ত মানুষকে আরও নিকট করে, আপন বলে ভাবতে শিখেছি। এই দুর্লভ মানবীয় অনুভূতি যদি সত্যিই
কিছুটা এসে থাকে, তবে তার ষোল আনা না হলেও অন্তত বারো আনাই যে নজরুলের প্রভাব হয়েছে,
একথা অকুণ্ঠভাবে স্বীকার করবো।”৮
জীবনানন্দ দাশ তার 'নজরুলের কবিতা' শীর্ষক প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের
কাব্যশক্তি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রাজ্ঞ মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন-
“নজরুল ইসলামের আগ্রহ পুষ্ট হযেছিল, তিনি অনেক সফল কবিতা উৎসারিত করতে পেরেছিলেন।
কোনো কোনো কবিতায এত বেশি সফলতা যে কঠিন সমালোচকও বলতে পারেন যে নজরুলী সাধনা এইখানে
সার্থক হয়েছে। কিন্তু তবুও মহৎ মান এড়িয়ে গিয়েছে। কোনো এক যুগে মহৎ কবিতা বেশি লেখা
হয় না। কিন্তু যে বিশেষ সময় ধর্ম, ব্যক্তিক আগ্রহ ও একান্ততার জন্যে নজরুলের অনেক কবিতা
সফল ও কোনো কোনো কবিতা সার্থক হযেছিল - জ্ঞানে ও অভিজ্ঞতার মূল্য ও মাত্রা চেতনায় খানিকটা
সুস্থির হয়েও আজকের দিনের অনেক কবিতাই যে সে তুলনায় ব্যাহত হযে যাচ্ছে তা শুধু আধুনিক
বিমুখ সময়রূপের জন্যেই নয় আমাদের হৃদয়ও আমাদের শিল্পাচার করে, অনেক সময়ই আমাদের মনও
আমাদের নিজেদের নয়, এই সাময়িকতার নিয়মই হয়তো তাই।”৯
৭. চারণ কবি মুকুন্দদাস ও যাত্রামঞ্চ:
স্বদেশী যাত্রার রূপকার চারণ কবি মুকুন্দদাসের (১৮৭৮-১৯৩৪) যাত্রাপালায়
নজরুল একাধারে গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। মুকুন্দদাসের
'পল্লীসেবা' (রচনাকাল ১৯২৫) যাত্রাপালায় নজরুলের 'জাতের নামে বজ্জাতি সব' এবং 'ঘোর
ঘোর ঘোর রে আমার সাধের চরকা ঘোর' গান ব্যবহৃত হয়। প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায়ের দেয়া তথ্য
থেকে অনুপম হায়াৎ (জ. ১৯৫০) জানিয়েছেন-
“মুকুন্দদাস তাঁর যাত্রামঞ্চে নজরুলকে বিপ্লবী গান গাওয়ারও আমন্ত্রণ জানান।
নজরুল সে আমন্ত্রণ রক্ষা করে কলকাতার কেয়া বাজারের বারোয়ারি তলায় যাত্রামঞ্চে আবির্ভূত
হন মুকুন্দদাসের মতো গেরুয়া রঙের জামা-পাগড়ী পরে। সেদিন বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে যাত্রামঞ্চে
নজরুল উপস্থিত হয়ে, গান গেয়ে যে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিলেন তা বর্ণনাতীত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা
লিখেছেন।”১০
৮. রণসঙ্গীত ও ঢাকা আগমন:
কাজী নজরুল ইসলাম প্রথমবার ঢাকায় আসেন ১৯২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয়
বার আসেন ১৯২৮ সালের মার্চ মাসে। সাহিত্যসমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠানে গেয়ে শোনান
তার অতিবিখ্যাত ‘চল, চল চল’ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ গানটি, যা বর্তমানে আমাদের দেশের
রণসঙ্গীতের মর্যাদার অধিকারী। নজরুল আকাশ-পৃথিবীর প্রাকৃতিক রূপক এবং রণমাদলের ধ্বনি
ব্যবহার করে এক সংগ্রামী আবহ তৈরি করেছেন, যেখানে বিন্ধ্যাচল পর্বতের মতো বিশাল বাধা
কিংবা ঘন অন্ধকার ভেদ করে নতুন ভোর বা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত হয়েছে।
কবির দৃষ্টিতে পরাধীন বা স্থবির সমাজ একটি ‘মহাশ্মশান’, আর তরুণ দল তাদের অদম্য প্রাণশক্তি
ও বাহুবলে সেই মৃতপ্রায় সমাজকে পুনর্জীবিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মার্চ সংগীতের তেজস্বী
ছন্দ, দ্রুত লয় এবং সহজ-জোরালো সুরের সমন্বয়ে গঠিত এই গানটি কেবল অন্যায়ের প্রতিবাদ
বা শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই জোগায় না, বরং যেকোনো জাতীয় সংকটে তরুণ
সমাজকে একসূত্রে বাঁধার এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক চিরন্তন বার্তা বহন
করে।
৯. অসাম্প্রদায়িকতা ও জীবনদর্শন:
কাজী নজরুল ইসলাম আজীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাম্যবাদের মহান বার্তা
লালন ও প্রচার করেছেন। ১৯৪১ সালের এপ্রিল মাসের কিছুদিন পূর্বে কলকাতার মুসলিম ইনস্টিটিউট
ভবনে 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন কবি। উক্ত অনুষ্ঠানে 'যদি আর বাঁশি না বাজে' শিরোনামে দেওয়া নিজের জীবনের শেষ
অভিভাষণে তিনি তার জীবনদর্শন ও মূল লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন—
“হিন্দু-মুসলমানের দিনরাত হানাহানি, জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ,
মানুষের জীবনে একদিকে কঠোর দারিদ্র্য, ঋণ, অভাব-অন্য দিকে লোভী অসুরের যক্ষের ব্যাঙ্কে
কোটি কোটি টাকা পাষাণস্তূপের মত জমা হয়ে আছে। এ অসাম্য ভেদজ্ঞান দূর করতেই আমি এসেছিলাম।
আমার কাব্যে সংগীতে কর্মজীবনে অভেদ ও সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমি যশ চাই
না, খ্যাতি চাই না, প্রতিষ্ঠা চাই না, নেতৃত্ব চাই না। জীবন আমার যত দুঃখময়ই হোক, আনন্দের
গান- বেদনার গান গেয়ে যাব আমি। দিয়ে যাব নিজেকে নিঃশেষ করে সকলের মাঝে বিলিয়ে। সকলের
বাঁচার মাঝে থাকবো আমি বেঁচে। এই আমার ব্রত, এই আমার সাধনা, এই আমার তপস্যা।”১১
কাজী নজরুল ইসলাম আজীবন হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি রক্ষায় অত্যন্ত সক্রিয়
ও সচেতন ভূমিকা পালন করেছেন। সংঘাত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিনিয়ত
জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। তার এই অসাম্প্রদায়িক মনোভাব কেবল সাহিত্যকর্ম বা বিভিন্ন
বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তার ব্যক্তিগত জীবনধারা ও দৈনন্দিন আচরণের মধ্যেও
এই একই চেতনা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল।
“তিনি হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান-পারসিক-অগ্নি
উপাসক-ইহুদি-নৃতাত্ত্বিক উপজাতি সবাইকে একই সমান মানুষ হিসেবে দেখেছেন-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান,
গাহি সাম্যের গান
কে তুমি?-পার্সি? জৈন? ইহুদি? সাঁওতাল,
ভীল, গারো?
…
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব পড়ে যাও,
যত সখ (সাম্যবাদী, নজরুল)
নজরুল সর্বমানবতার জয়গান করেছেন তাঁর
সৃষ্টির বিচিত্র বলয়ে।”১২ কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে
তিনি নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি; বরং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ, সকল মানুষের মাঝে ভেদাভেদহীন
সমতা প্রতিষ্ঠা এবং এক অখণ্ড ভালোবাসার বিশ্ব গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের মূল সাধনা।
তার এই বাণী মূলত প্রকাশ করে যে, তিনি কেবল সুর বা সাহিত্যের মধ্য দিয়েই নয়, বরং
অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতির প্রতীক হিসেবে মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরূক থাকতে চেয়েছেন।
নজরুলকে নিয়ে প্রথম গবেষণাও শুরু হয়েছিল ষাটের দশকের শেষ দিকে। তারপর থেকে
এই দুই বাংলায় নজরুলকে নিয়ে বহুমুখী গবেষণা হয়েছে এবং এখনও তা হচ্ছে। এমন কি, রাশিয়া,
চীন, ভিয়েতনাম ও জাপানেও কবিকে নিয়ে চর্চা ও গবেষণা হচ্ছে। কবিকে নিয়ে দুই বাংলায় মোট
চারটি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে কলকাতায় ও ঢাকায়। স্বাধীন বাংলাদেশ জীবনের শেষ পর্বে
কবিকে দান করেছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং সম্মানসুলভ নাগরিকত্ব। এ পর্যন্ত কবির লেখা
প্রাপ্ত গানের সংখ্যা ৩২৪০। এর বাইরেও আরও গান হয়তো আছে। কিন্তু তা জনসমক্ষে এখনো পাওয়া
যায়নি। এর মধ্যে রেকর্ডে বিধৃত গানের সংখ্যা প্রায় ১৬৩৬। নজরুল সঙ্গীত বিষয়ক গবেষক
ব্রহ্মমোহন ঠাকুরের মতে, রেকর্ডে বাণীবদ্ধ নজরুলের গানের সংখ্যা ১৬৪৮ এবং নজরুল রচিত
গানের মোট সংখ্য তার মতে ২৭১৫। এখনো বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন রবীন্দ্রনাথ
এবং নজরুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথের মতোই নজরুলের জন্মদিন বা প্রয়াণ তিথি দেশের সর্বত্র
নিয়মিত পালন বা স্মরণ করেন দুই বাংলার অসংখ্য মানুষ। এখনো আবৃত্তির ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের
পরই অন্যতম অবলম্বন নজরুলের কবিতা বা রচনা। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে ও ঠিক তাই। কিন্তু কেন
এই আযোজন, এই উচ্ছ্বাস? কেন কবি নজরুল কোটি কোটি মানুষের অন্তরে আজও শ্রদ্ধার আসনে
অটল?
সাধারণভাবে যে কটি কারণ মোটামুটিভাবে নজরুলকে এই উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে
“প্রসঙ্গ: নজরুল চর্চার ভিন্নরূপ”১৩ প্রবন্ধে তার একটি ক্রম করেছেন বাঁধন
সেনগুপ্ত -
১) নজরুলই এই উপমহাদেশে স্বাধীনতা, ন্যায়, সংগ্রাম ও প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক।
২) এই দেশে তিনিই প্রথম কবি যিনি সাম্প্রদায়িকতাকে ধিক্কার জানিয়ে এর বিরুদ্ধে
মনে প্রাণে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন।
৩) তিনি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার অন্যতম রূপকার যিনি ইংরেজ আমলে সর্বপ্রথম
এক বছবের জন্যে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হযেছিলেন এবং জেলে অব্যবস্থার বিরুদ্ধে ৩৯ দিন অনশন
কবেছিলেন।
৪) তাঁর রচিত কবিতা, গান ও প্রবন্ধ ছিল পরাধীন জাতির কাছে প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের
বিদ্যুৎ ছোঁয়া স্বরলিপি।
৫) রবীন্দ্রনাথ, বিপিন পাল, বাবীন ঘোষ, প্রফুল্লচন্দ্র বায, শবৎচন্দ্র,
সুভাষচন্দ্র বা চিত্তরঞ্জন দাশ সহ সমস্ত সুধীজনেব প্রশংসা ও স্নেহধন্য এই কবি ছিলেন
বাংলার আপামর মানুষের ভালবাসার জন।
৬) নজরুল শুধু গানের সংখ্যার দিক থেকেই প্রধান তা নয়, তাঁর বৈচিত্র্যেভরা
বিভিন্ন বাগরাগিনী তথা ভক্তি রসাশ্রিত গান আজও বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
৭) তাঁর ব্যক্তিজীবনের দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও সাফল্য বাঙালির জীবনবোধের পরিচিত
চিত্রলিপির বাস্তব প্রতিভাস।
৮) জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে তাঁর স্থান আজও সর্বোচ্চ।
৯) তিনি মানবতার পূজারী যিনি বিদ্রোহী এবং প্রেমিক।
১০) তিনিই বাংলা সাহিত্যের ব্যাপকক্ষেত্রে ও গণজীবনে প্রথম গণচেতনার কবি।
কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল একাধারে বিপুল ও বিস্ময়কর; কিন্তু
তা স্থায়ী হয়েছিল অত্যন্ত স্বল্পকাল। ভাবের বৈচিত্র্য এবং শিল্পরূপের ঐশ্বর্যে বাংলা
সাহিত্যে তার তুলনা কেবল তিনিই—কিংবা তার এই প্রতিভার সমকক্ষতা খুঁজে পেতে আমাদের তাকাতে হয় বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের
শ্রেষ্ঠ দিগ্বিজয়ী কবিদের পানে। ঝড়ো হাওয়ার মতো ক্ষিপ্র, অথচ একই সাথে সরল ও জটিল
এক নাটকীয় জীবনের অধিকারী ছিলেন তিনি।
১০. উপসংহার:
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলা ভাষা
ও সাহিত্যের এক অনন্য, বাঁধনহারা ও সাম্যবাদী ধ্রুবতারা। মহাকালের প্রলয়ঙ্করী ঝঞ্ঝার
মতো তিনি এসেছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে, শোষিত ও নিপীড়িত গণমানুষের বুকে স্বাধিকার
ও দ্রোহের রক্তিম মশাল জ্বালিয়ে দিতে। প্রেমের আরক্ত মহিমান্বিত রূপ থেকে শুরু করে
অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহানুভবতা—সাহিত্যের প্রতিটি প্রাঙ্গণে তার পদচারণা ছিল বিপুল, সমৃদ্ধ ও চিরভাস্বর।
স্বল্পকালের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি যে বৈচিত্র্যময় সুর, সাম্য ও স্বাধিকারের বজ্রনির্ঘোষ
রেখে গেছেন, তা যুগের সীমানা ছাড়িয়ে চিরন্তন ও অক্ষয় এক অমরাবতীতে পরিণত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, যতকাল বাঙালি জাতির ধমনীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সাম্যের
স্পন্দন জাগ্রত থাকবে, ততকাল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের চেতনার পরম বাতিঘর
ও বাঙালির প্রাণের শ্রেষ্ঠ অমলিন সম্পদ হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন।
তথ্যসূত্র
১. গান, কাজী নজরুল
ইসলাম।
২. নজরুল-জীবনীর
মূল্যায়ন, আবদুল মান্নান সৈয়দ, ১৯৯৯ সালের ২১ মে নজরুল জন্মশতবর্ষে প্রথম আলোর সাহিত্য
সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল।
৩. নজরুলের কথা
- ননৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলামের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য সংকলন,
আলোর উদ্দাম পথিক, পৃষ্ঠা ৩৫, দীপ প্রকাশ, কলকাতা।
৪. “ঘামেতে ভিজলো
আমার গা-টা মাখতে মাখতে গমের আটা।”
৫. শত মনীষীর কথা ১, ভবেশ রায়, ই-বাংলা লাইব্রেরি, কাজী
নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) – বাংলার বিদ্রোহী
কবি।
৬. নজরুল-সাহিত্যের কমালোচিত প্রসঙ্গ, তপন বাগচী, নন্দিতা
প্রকাশ, পৃ. ৪১
৭. নজরুল-জীবনীর মূল্যায়ন, আবদুল মান্নান সৈয়দ, ১৯৯৯ সালের
২১ মে নজরুল জন্মশতবর্ষে প্রথম আলোতে প্রকাশিত, অনলাইন সংস্কারণ।
৮. আমার সাহিত্যিক জীবনের অভিজ্ঞতা, কাজী মোতাহার হোসেন,
নির্বাচিত প্রবন্ধ, মুক্তধারা, ঢাকা, ১৯৭৬, পৃ. ১৭
৯. নজরুলের কবিতা - জীবনানন্দ দাশ, কাজী নজরুল ইসলামের
জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য সংকলন, আলোর উদ্দাম পথিক, পৃষ্ঠা ৫৮, দীপ প্রকাশ, কলকাতা।
১০. নজরুল ও যাত্রাগান, নজরুল-সাহিত্যের কমালোচিত প্রসঙ্গ,
তপন বাগচী, নন্দিতা প্রকাশ, পৃ. ৩০
১১. নজরুল-সাহিত্যের কমালোচিত প্রসঙ্গ, তপন বাগচী, নন্দিতা
প্রকাশ, পৃ. ৬৩
১২. নজরুলের গানের চিত্রকল্প প্রেম, দ্রোহ ও সমাজভাবনা-
সম্পা দাস, কথা প্রকাশ, মে ২০২৪, পৃ. ৩১৫
১৩. প্রসঙ্গ: নজরুল চর্চার ভিন্নরূপ, বাঁধন সেনগুপ্ত,
কাজী নজরুল ইসলামের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য সংকলন, আলোর উদ্দাম দীপ প্রকাশ, কলকাতা।
শিরোনাম: কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য
ও দর্শন: অভিমতের সংকলিত পাঠ
লেখক: মুহাম্মদ আল ইমরান
নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
